০৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীর পাতিলাখালিতে জামায়াতের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদী সংবাদদাতা
  • আপডেট : ০৬:০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৪২ বার দেখা হয়েছে

ঈশ্বরদীর পাতিলাখালি নতুন পাড়ায় পৌর জামায়াতের ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (২ নভেম্বর) রবিবার সন্ধায় এ নির্বাচনী উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত সুজন।

জামায়াতের এ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ ঈশ্বরদী আটঘরিয়া গন মানুষের অবিভাবক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রব্বানী খাঁন জুবায়ের সহ পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম আযম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, যাদের অবদানে বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীনতার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ফিরে এসেছে। তাদের জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের রূপ দিতে হবে। জুলাই সনদ এমন একটি সনদ যেখানে দেশ পরিচালনার সঠিক রুপরেখা তুলে ধরা আছে। সাম্য ও ঐক্যের কথা বলা আছে। বর্তমানে একটি গোষ্ঠী জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের পক্ষে না ভোট দিয়ে ৩৬ জুলাইয়ের পরবর্তী বাংলাদেশে নতুনভাবে স্বৈরাচার হওয়া বৃথা প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। কিন্তু সচেতন জনগণ স্বৈরাচারদের আর দেখতে চাই না, প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করবে। তিনি আরও বলেন, বন্ধু সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন কেন্দ্রীয় সেই নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব তার বক্তব্যে বলেছেন যে পুরুষেরা যখন বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান তখন নাকি জামায়াতের মহিলা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে। তার এমন বক্তব্যকে তিনি প্রতিবাদ করে বলেন, বড় দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন মিথ্যাচার ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার মানুষ কখনোই বিশ্বাস করে না জামায়াতের মহিলা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমন কাজের সাথে জড়িত নয়। মহিলারা বাড়িতে বাড়িতে তালিম করে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, পারিবারিক জীবন পরিচালনা মূলক শিক্ষা দিয়ে থাকে। জনাব হাবিবুর রহমান হাবিবের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের ফায়দা উল্লেখ করে বলেন, তার বক্তব্য জনগণ প্রতিহত করেছে, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্য জনগণ কখনোই মেনে নিবে না। এটি চরম মিথ্যাচার ও ঘৃণিত। পরিশেষে তিনি জামায়াতকে দেশ পরিচালনার সুযোগ চেয়ে উঠান বৈঠকে বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্য ও ঐক্যের, আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষা ও উন্নয়নের, আগামীর বাংলাদেশ হবে ভাতৃত্ব ও ভালোবাসার, আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বাধীনভাবে কথা বলার বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কাটাকাটি হানাহানি মারামারি। এমন বাংলাদেশ গড়ার সহযোগিতা চেয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈশ্বরদীর পাতিলাখালিতে জামায়াতের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৬:০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ঈশ্বরদীর পাতিলাখালি নতুন পাড়ায় পৌর জামায়াতের ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (২ নভেম্বর) রবিবার সন্ধায় এ নির্বাচনী উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত সুজন।

জামায়াতের এ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ ঈশ্বরদী আটঘরিয়া গন মানুষের অবিভাবক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রব্বানী খাঁন জুবায়ের সহ পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম আযম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, যাদের অবদানে বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীনতার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ফিরে এসেছে। তাদের জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের রূপ দিতে হবে। জুলাই সনদ এমন একটি সনদ যেখানে দেশ পরিচালনার সঠিক রুপরেখা তুলে ধরা আছে। সাম্য ও ঐক্যের কথা বলা আছে। বর্তমানে একটি গোষ্ঠী জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের পক্ষে না ভোট দিয়ে ৩৬ জুলাইয়ের পরবর্তী বাংলাদেশে নতুনভাবে স্বৈরাচার হওয়া বৃথা প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। কিন্তু সচেতন জনগণ স্বৈরাচারদের আর দেখতে চাই না, প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করবে। তিনি আরও বলেন, বন্ধু সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্যের কথা তুলে ধরে বলেন কেন্দ্রীয় সেই নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব তার বক্তব্যে বলেছেন যে পুরুষেরা যখন বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান তখন নাকি জামায়াতের মহিলা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে। তার এমন বক্তব্যকে তিনি প্রতিবাদ করে বলেন, বড় দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন মিথ্যাচার ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার মানুষ কখনোই বিশ্বাস করে না জামায়াতের মহিলা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমন কাজের সাথে জড়িত নয়। মহিলারা বাড়িতে বাড়িতে তালিম করে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, পারিবারিক জীবন পরিচালনা মূলক শিক্ষা দিয়ে থাকে। জনাব হাবিবুর রহমান হাবিবের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের ফায়দা উল্লেখ করে বলেন, তার বক্তব্য জনগণ প্রতিহত করেছে, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্য জনগণ কখনোই মেনে নিবে না। এটি চরম মিথ্যাচার ও ঘৃণিত। পরিশেষে তিনি জামায়াতকে দেশ পরিচালনার সুযোগ চেয়ে উঠান বৈঠকে বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্য ও ঐক্যের, আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষা ও উন্নয়নের, আগামীর বাংলাদেশ হবে ভাতৃত্ব ও ভালোবাসার, আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বাধীনভাবে কথা বলার বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কাটাকাটি হানাহানি মারামারি। এমন বাংলাদেশ গড়ার সহযোগিতা চেয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।