আওয়ামীলীগ কর্মী শামীম মহলদার কর্তৃক জামায়াতের মহিলা কর্মীকে মারধর, লাঞ্ছনা ও হুমকি প্রদান
- আপডেট : ০৫:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬১৮ বার দেখা হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ কর্মী শামীম মহলদারের হাতে সম্পা খাতুন নামে এক মহিলা জামায়াত কর্মী লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর মহলদারপাড়ায় এ ঘৃণ্য ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিলা জামায়াত কর্মী সম্পা খাতুনসহ কয়েকজন মহিলা মহলদারপাড়ায় দ্বীনি লিফলেট, ইসলামী সাহিত্য ও কোরআন-হাদীসের বই বিতরণ করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী ও এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত শামীম মহলদার তাদের হাতে ধর্মীয় বইপত্র দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সম্পা খাতুনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও বেধড়ক মারধর করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শামীম মহলদার এসময় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া অন্য মহিলাদের দিকেও তেড়ে যান এবং বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত কর্মী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে শামীম মহলদার লাঠি হাতে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে শামীম মহলদার সেখান থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ওই এলাকার মৃত সবুর মহলদারের ছেলে শামীম মহলদার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এলাকায় দাপট দেখানো, চাঁদাবাজি ও মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন তার নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, হামলার ঘটনায় সম্পা খাতুন ও তার স্বামী মোঃ সুজন আলী বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. স. ম. আব্দুন নুর বলেন, “ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা দোষী আওয়ামী কর্মীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।























