শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ সেতুর পাশে নতুন রেলসেতু
- আপডেট : ১১:৪০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৬৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই
- সেতু নির্মাণ হবে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৩০০ মিটার উত্তরে
- দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি, উভয় পাশে হবে ৫ কিমি ভায়াডাক্ট
- এতে রেলযোগাযোগ আরও সহজ এবং গতিশীল হবে
পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ রেলসেতুর পাশে নতুন আরেকটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শতবর্ষী এ সেতুতে ট্রেন চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এ পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের খসড়া প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, নতুন রেলসেতুটি নির্মাণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৯ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সুবিধাদি প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের পরিচালক মো. আবিদুর রহমান বলেন, এখনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চূড়ান্ত হয়নি। কাজ চলছে।
ডিটেইল ডিজাইন এবং সম্ভবত সমীক্ষা চূড়ান্ত হলে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। তারপর ডিপিপি রেল মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকে সেটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১১টি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে, যেগুলোর কাজ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হবে।
এদিকে নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রয়েছে, তা শত বছরের পুরোনো। এটি ঐতিহাসিক হলেও ট্রেন চলাচলে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। নতুন ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনবিশিষ্ট ব্রিজ নির্মাণ করা হলে রেলযোগাযোগ আরও সহজ এবং গতিশীল হবে।
১১০ বছরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে আছে ১১০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। একদিকে অপরূপ সৌন্দর্য, অন্যদিকে ইতিহাসের নিদর্শন এটি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আজও এটির ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে ট্রেন।
রেলওয়ের পাকশী বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০০ বছর পূর্ণ করে। এরপর রেল বিভাগ একটি মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) করে, যাতে দেখা যায়—এ ব্রিজ দিয়ে ২০৪০ সাল পর্যন্ত নিরাপদে ট্রেন চলাচল সম্ভব, যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকে।
ব্রিজের স্টিল অংশ ও রেললাইনসম্পর্কিত ফিটিংস নিয়মিত মেরামত করা হয়। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৫ বছরে একবার ব্রিজটি রং করা হয় এবং ৩ বছর পরপর বিয়ারিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্তভাবে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কারণ যুদ্ধের সময় ব্রিজটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সংস্কারের পর সর্বোচ্চ গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু সেতুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চলার গতিও কমেছে।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মোট ২৮টি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে, যার মধ্যে ১৮টি যাত্রীবাহী ও ১০টি মালবাহী।
অবিভক্ত ভারতের কলকাতার সঙ্গে আসাম ও ইস্টার্ন বেঙ্গলের যোগাযোগ সহজ করতে ১৮৮৯ সালে পদ্মা নদীর ওপর একটি রেলসেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেয় ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৯০৮ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে একমুখী লাইনের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে ডাবল লাইনের সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। তারপর ঐতিহাসিক এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১০ সালে এবং শেষ হয় ১৯১৫ সালে। ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপি। ১৯১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রেন চলে এবং ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।
তথ্য সূত্র : আজকের পত্রিকা




















