১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক জোট, চলছে আসন সমাঝোতা

অন্যদেশ ডেস্ক
  • আপডেট : ০২:০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪৭১ বার দেখা হয়েছে

জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক জোট, চলছে আসন সমাঝোতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতার চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে।

এ অবস্থায় ৩৬ জুলাইয়ের তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে এমন আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না। বরং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই আসন সমঝোতার দিকে এনসিপি।

এনসিপির দায়িত্বশীল পর্যায়ের  একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, দুই দলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকে নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। গত বুধবার জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দুদফা বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠকে জোট গঠনের বিষয়টি এড়িয়ে মূলত আসন সমঝোতার দিকেই অগ্রগতি হয়েছে। সংস্কার, বিচারসহ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে।

এদিকে নির্ভযোগ্য বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতা হলে এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চেয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ৩০ থেকে ৫০টি আসন ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এসব আসনে এনসিপির বর্তমান জোটসঙ্গী আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রার্থীরাও থাকতে পারে।

গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঝুঁকি কমবে এবং আসনের নিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। এ জোটে আরও কয়েকটি দল যুক্ত হতে পারে, যা চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সমন্বিত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, আসন সমঝোতা হলেও এনসিপি নিজেদের প্রতীক ‘শাপলা কলি’তেই নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে দলটি। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো অবস্থাতেই এনসিপির প্রার্থীরা অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন না। সমঝোতা হলেও শাপলা কলি প্রতীকেই ভোটের মাঠে থাকবে বলে এনসিপির নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক জোট, চলছে আসন সমাঝোতা

আপডেট : ০২:০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক জোট, চলছে আসন সমাঝোতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতার চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে।

এ অবস্থায় ৩৬ জুলাইয়ের তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে এমন আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না। বরং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই আসন সমঝোতার দিকে এনসিপি।

এনসিপির দায়িত্বশীল পর্যায়ের  একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, দুই দলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকে নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। গত বুধবার জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দুদফা বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠকে জোট গঠনের বিষয়টি এড়িয়ে মূলত আসন সমঝোতার দিকেই অগ্রগতি হয়েছে। সংস্কার, বিচারসহ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে।

এদিকে নির্ভযোগ্য বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতা হলে এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চেয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ৩০ থেকে ৫০টি আসন ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এসব আসনে এনসিপির বর্তমান জোটসঙ্গী আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রার্থীরাও থাকতে পারে।

গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঝুঁকি কমবে এবং আসনের নিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। এ জোটে আরও কয়েকটি দল যুক্ত হতে পারে, যা চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সমন্বিত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, আসন সমঝোতা হলেও এনসিপি নিজেদের প্রতীক ‘শাপলা কলি’তেই নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে দলটি। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো অবস্থাতেই এনসিপির প্রার্থীরা অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করবেন না। সমঝোতা হলেও শাপলা কলি প্রতীকেই ভোটের মাঠে থাকবে বলে এনসিপির নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।