০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।

অন্যদেশ ডেস্ক
  • আপডেট : ০১:১২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / ১৬১ বার দেখা হয়েছে

ঈশ্বরদীতে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে সিডিউল ভুক্ত করা হয়। যা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে নিয়মানুযায়ী কাজের কোন সত্যতা না পাওয়ায় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের আশেপাশের মানুষের চরম উদ্বেগ ও শংকার কথা উঠে এসেছে। যা বরাবরই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নিম্নমানের কাজের সাথে প্রতিষ্ঠানের খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম জড়িত বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ করে সীমানা প্রাচীরের পাশ্ববর্তী জমির মালিক মোঃ আতাউর রহমান, মোঃ জালাল হোসেন ও মোঃ সারোয়ার হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি আমাদের জমির সাথে হওয়ায় আমরা লক্ষ্য করেছি কাজটি খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। এই সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি সরকারি নির্মাণ বিধিমালা (Building Construction Act, 1953) অনুযায়ী, যেকোনো কাঠামো বা বাউন্ডারী নির্মাণের জন্য অনুমোদিত নকশা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, সীমানা প্রাচীর বা যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন- রাজউক বা পৌরসভা) অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও নিয়মগুলো না মেনে সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে না বলে তথ্যও তুলে ধরেন।

নির্মাণ কাজের তদারকিতে থাকা খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের সরকারি প্রকল্পের কাজের গুণমান নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহল বা ঠিকাদারের যোগসাজশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে বাউন্ডারী বা সীমানা প্রাচীর তৈরিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয় জনগন। নিম্ন মানের কাজের বিষয়ে সরাসরি খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম কে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে সিডিউল কর্তা ঠিকাদার মোঃ মোবারক হোসেন লিটু ও প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে দোষারোপ করে বিষটি এরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সীমানা প্রাচীরের মান চ্যালেঞ্জ করা হলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে থাকা লেবারের মাধ্যমে কাজের মান যাচাইয়ে অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ সহ প্রতিবেদনে চিত্র উঠে আসে যা কাজের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাজের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সিডিউল অনুযায়ী না হওয়ার প্রমাণ তুলে ধরলে খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম স্বীকার করে নির্মাণ কাজে জড়িত থাকা শ্রমিকদের বলেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে পরবর্তীতে আর যেন সিডিউল এর বাহিরে কোন কাজ না হয় এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার চিত্র উঠে আসে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস কর্মকর্তা দীপক কুমার পালকে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি বলেন, আমার দেখা বা জানামতে সীমানা প্রাচীরের আশেপাশে কোন ধান ছিল না মর্মেই সীমানা প্রাচীরের পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের জমি ও ধানের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরলে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, কৃষককে না জানিয়ে কাজ করার কারনে ও খামার ব্যবস্থাপকের উদাসীনতার কারনে মাটির চাপাতে ধান যাওয়াতে কৃষকের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মৎস্য খামার কর্তৃক ক্ষতিপূরণে দাবির কথা তুলে ধরেন।

মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এ বিষয়ই অভিযোগ করেননি ভুক্তভোগীরা তারা আরও বলেন এই মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে প্রতিবছর মৌসুমী ফলের কোন প্রকার সরকারি দরপত্র ছাড়ায় বিক্রির অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা আরও বলেন, খামার ব্যবস্থাপক হিসাবে প্রায় ৬ বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা নিয়ে জনমনে অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলেন, এর আগে কোন খামার ব্যবস্থাপককে খামার ব্যবস্থাপক হিসাবে এখানে এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। এই খামার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীরের পাশ্ববর্তী জমির মালিক কৃষক মোঃ আতাউর রহমান ও মোঃ জালাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু করেছে। আমাদের জমির সংলগ্ন হওয়ায় বর্তমানে জমিতে ধান থাকায় পাকা ধানের উপর সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের মাটিগুলো ফেলা হয়েছে দাবি করে ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও বলেন, আমরা কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে জমি হওয়ায় আমাদের জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে সীমানা প্রাচীরের কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এই ক্ষতিপূরন না দিলে আমাদের পরিবারের জীবন জীবিকা পরিচালনা ব্যহত হবে বলে দাবি তুলে ধরেন। কৃষকের ক্ষতিপূরনের বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপকের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ আসলে বিবেচনা করে কৃষককে ক্ষতিপূরনে সহযোগীতা করা হবে বলে জানান।

কাজের মান ও সচ্ছতার বিষয়ে ঠিকাদার মোঃ মোবারক হোসেন লিটুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজটি পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সরেজমিনে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন আমি উপস্থিত না থাকাতে হয়ত এমন চিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতি রোধে সরকার সবসময়ই একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর কথা বলে থাকে, যেখানে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকে। সাধারণত যে ধরণের দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয় যেমন-
১.নকশা অনুযায়ী বাউন্ডারীর উচ্চতা বা পুরুত্ব কম রাখা।
২.রড, সিমেন্ট ও বালুর গুণমান বজায় না রাখা।
৩.মাটির গভীরতা বা ফাউন্ডেশনের কাজ ঠিকমতো না করা। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে, কর্তৃপক্ষ তা ভেঙে ফেলার বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এমন বিষয় জানার চেষ্টা করলে খামার ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা মোঃ রেজাউল ইসলাম কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈশ্বরদীতে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।

আপডেট : ০১:১২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ঈশ্বরদীতে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে সিডিউল ভুক্ত করা হয়। যা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে নিয়মানুযায়ী কাজের কোন সত্যতা না পাওয়ায় মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের আশেপাশের মানুষের চরম উদ্বেগ ও শংকার কথা উঠে এসেছে। যা বরাবরই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নিম্নমানের কাজের সাথে প্রতিষ্ঠানের খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম জড়িত বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ করে সীমানা প্রাচীরের পাশ্ববর্তী জমির মালিক মোঃ আতাউর রহমান, মোঃ জালাল হোসেন ও মোঃ সারোয়ার হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি আমাদের জমির সাথে হওয়ায় আমরা লক্ষ্য করেছি কাজটি খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। এই সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের কাজটি সরকারি নির্মাণ বিধিমালা (Building Construction Act, 1953) অনুযায়ী, যেকোনো কাঠামো বা বাউন্ডারী নির্মাণের জন্য অনুমোদিত নকশা এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, সীমানা প্রাচীর বা যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন- রাজউক বা পৌরসভা) অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও নিয়মগুলো না মেনে সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে না বলে তথ্যও তুলে ধরেন।

নির্মাণ কাজের তদারকিতে থাকা খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের সরকারি প্রকল্পের কাজের গুণমান নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহল বা ঠিকাদারের যোগসাজশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে বাউন্ডারী বা সীমানা প্রাচীর তৈরিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয় জনগন। নিম্ন মানের কাজের বিষয়ে সরাসরি খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম কে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে সিডিউল কর্তা ঠিকাদার মোঃ মোবারক হোসেন লিটু ও প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে দোষারোপ করে বিষটি এরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সীমানা প্রাচীরের মান চ্যালেঞ্জ করা হলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে থাকা লেবারের মাধ্যমে কাজের মান যাচাইয়ে অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ সহ প্রতিবেদনে চিত্র উঠে আসে যা কাজের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাজের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সিডিউল অনুযায়ী না হওয়ার প্রমাণ তুলে ধরলে খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলাম স্বীকার করে নির্মাণ কাজে জড়িত থাকা শ্রমিকদের বলেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে পরবর্তীতে আর যেন সিডিউল এর বাহিরে কোন কাজ না হয় এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার চিত্র উঠে আসে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস কর্মকর্তা দীপক কুমার পালকে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি বলেন, আমার দেখা বা জানামতে সীমানা প্রাচীরের আশেপাশে কোন ধান ছিল না মর্মেই সীমানা প্রাচীরের পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের জমি ও ধানের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরলে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, কৃষককে না জানিয়ে কাজ করার কারনে ও খামার ব্যবস্থাপকের উদাসীনতার কারনে মাটির চাপাতে ধান যাওয়াতে কৃষকের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মৎস্য খামার কর্তৃক ক্ষতিপূরণে দাবির কথা তুলে ধরেন।

মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এ বিষয়ই অভিযোগ করেননি ভুক্তভোগীরা তারা আরও বলেন এই মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে প্রতিবছর মৌসুমী ফলের কোন প্রকার সরকারি দরপত্র ছাড়ায় বিক্রির অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা আরও বলেন, খামার ব্যবস্থাপক হিসাবে প্রায় ৬ বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা নিয়ে জনমনে অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলেন, এর আগে কোন খামার ব্যবস্থাপককে খামার ব্যবস্থাপক হিসাবে এখানে এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। এই খামার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে সীমানা প্রাচীরের পাশ্ববর্তী জমির মালিক কৃষক মোঃ আতাউর রহমান ও মোঃ জালাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের না জানিয়ে সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু করেছে। আমাদের জমির সংলগ্ন হওয়ায় বর্তমানে জমিতে ধান থাকায় পাকা ধানের উপর সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণের মাটিগুলো ফেলা হয়েছে দাবি করে ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও বলেন, আমরা কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে জমি হওয়ায় আমাদের জমির পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে সীমানা প্রাচীরের কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এই ক্ষতিপূরন না দিলে আমাদের পরিবারের জীবন জীবিকা পরিচালনা ব্যহত হবে বলে দাবি তুলে ধরেন। কৃষকের ক্ষতিপূরনের বিষয়ে খামার ব্যবস্থাপকের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার নিকট কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ আসলে বিবেচনা করে কৃষককে ক্ষতিপূরনে সহযোগীতা করা হবে বলে জানান।

কাজের মান ও সচ্ছতার বিষয়ে ঠিকাদার মোঃ মোবারক হোসেন লিটুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজটি পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সরেজমিনে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন আমি উপস্থিত না থাকাতে হয়ত এমন চিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতি রোধে সরকার সবসময়ই একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর কথা বলে থাকে, যেখানে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকে। সাধারণত যে ধরণের দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয় যেমন-
১.নকশা অনুযায়ী বাউন্ডারীর উচ্চতা বা পুরুত্ব কম রাখা।
২.রড, সিমেন্ট ও বালুর গুণমান বজায় না রাখা।
৩.মাটির গভীরতা বা ফাউন্ডেশনের কাজ ঠিকমতো না করা। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে, কর্তৃপক্ষ তা ভেঙে ফেলার বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এমন বিষয় জানার চেষ্টা করলে খামার ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা মোঃ রেজাউল ইসলাম কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।