০৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরে ২৪ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, নজরদারীতে বাতাস-পানি-মাটি

সিয়াম রহমান
  • আপডেট : ০৯:০৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / ১০০ বার দেখা হয়েছে

ঈশ্বরদীর রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ২৪টি স্বয়ংক্রিয় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রের আশপাশের বাতাস, পানি, মাটি, ঘাস, সবজি ও দুধের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ভবিষ্যতে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আশপাশে এখন পর্যন্ত পরিবেশগত ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ২৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় এসব কেন্দ্র বসানো হয়েছে। এমনকি রাজধানী ঢাকাতেও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

এই স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের নিরাপদ আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে। সেখান থেকেই সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. শৌকত আকবরের অনুরোধে সহায়তাকারী দেশ রাশিয়া পুরো ব্যবস্থাটি বিনামূল্যে স্থাপন করে দিয়েছে।

এখানে গত প্রায় এক দশকের পরিবেশগত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, সবজি ও দুধের বিভিন্ন উপাত্ত নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর পরিবেশে কোনো পরিবর্তন বা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ছে কি না, তা এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেই পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে এই কেন্দ্রগুলো দ্রুত তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগৃহীত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্যও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের বিশেষ যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রূপপুরে ২৪ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, নজরদারীতে বাতাস-পানি-মাটি

আপডেট : ০৯:০৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ঈশ্বরদীর রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ২৪টি স্বয়ংক্রিয় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রের আশপাশের বাতাস, পানি, মাটি, ঘাস, সবজি ও দুধের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ভবিষ্যতে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আশপাশে এখন পর্যন্ত পরিবেশগত ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ২৪টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় এসব কেন্দ্র বসানো হয়েছে। এমনকি রাজধানী ঢাকাতেও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

এই স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের নিরাপদ আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে। সেখান থেকেই সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. শৌকত আকবরের অনুরোধে সহায়তাকারী দেশ রাশিয়া পুরো ব্যবস্থাটি বিনামূল্যে স্থাপন করে দিয়েছে।

এখানে গত প্রায় এক দশকের পরিবেশগত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, সবজি ও দুধের বিভিন্ন উপাত্ত নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর পরিবেশে কোনো পরিবর্তন বা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ছে কি না, তা এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমেই পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে এই কেন্দ্রগুলো দ্রুত তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগৃহীত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্যও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের বিশেষ যন্ত্রও স্থাপন করা হয়েছে।