১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কি পেছাচ্ছে? অক্টোবরের পরিবর্তে জানুয়ারিতে ভোটের আভাস

আগামীর সময়
  • আপডেট : ১০:৫৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩৫ বার দেখা হয়েছে

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।

​তবে ইসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভোটের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

​নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে না।

​নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে যে কাজগুলো চলছে:

  • ​ভোটার তালিকা: আগামী ৩১ আগস্ট হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।
  • ​ভোটকেন্দ্র: ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে।
  • ​অন্যান্য কার্যক্রম: নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং আচরণবিধি ও নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

​নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, “অক্টোবরকে লক্ষ্য করেই প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রস্তুতি থাকলেই নির্বাচন হবে, এমন নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আবহাওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্র এবং অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, কোথায় কোথায় জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

​নির্বাচন আয়োজনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

  • ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও কঠোর আচরণবিধি প্রয়োগ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
  • ​প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই: ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, তাদের জামিনদার এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বিষয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চায় ইসি। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে বাম জোট শুধু আইন সংশোধন নয়, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।
  • ​সীমানা পুনর্নির্ধারণ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিভিন্ন এলাকায় সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

​নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফেমা (FEMA)-এর প্রেসিডেন্ট মনিরা খান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কম থাকে এমন সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কি পেছাচ্ছে? অক্টোবরের পরিবর্তে জানুয়ারিতে ভোটের আভাস

আপডেট : ১০:৫৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।

​তবে ইসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভোটের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

​নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে না।

​নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে যে কাজগুলো চলছে:

  • ​ভোটার তালিকা: আগামী ৩১ আগস্ট হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।
  • ​ভোটকেন্দ্র: ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে।
  • ​অন্যান্য কার্যক্রম: নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং আচরণবিধি ও নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

​নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, “অক্টোবরকে লক্ষ্য করেই প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রস্তুতি থাকলেই নির্বাচন হবে, এমন নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আবহাওয়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্র এবং অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।” তিনি আরও জানান, কোথায় কোথায় জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

​নির্বাচন আয়োজনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

  • ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও কঠোর আচরণবিধি প্রয়োগ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
  • ​প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই: ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, তাদের জামিনদার এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বিষয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চায় ইসি। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে বাম জোট শুধু আইন সংশোধন নয়, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।
  • ​সীমানা পুনর্নির্ধারণ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিভিন্ন এলাকায় সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

​নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফেমা (FEMA)-এর প্রেসিডেন্ট মনিরা খান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কম থাকে এমন সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।