০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিক্ষুকের ঘরে মিলল ২ বস্তা টাকা, হবে চিকিৎসা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট : ১১:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭১৭ বার দেখা হয়েছে

বয়স প্রায় ৬০ ছুঁইছুঁই। জীবনটা কেটেছে পথে পথে ভিক্ষা করে। কিন্তু সালেয়া বেগম কখনো নিজের জন্য কিছু রাখেননি। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নেননি, নতুন কাপড় কেনেননি। বরং ধীরে ধীরে জমিয়েছেন টাকার পর টাকা। চার দশকের বেশি সময় ধরে ভিক্ষা করে জমা সেই টাকা এখন দাঁড়িয়েছে দুই বস্তায়।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইওনিয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুল মাঠের পেছনে হঠাৎ হইচই। খবর ছড়িয়ে পড়েছে, ভিক্ষুক সালেয়া বেগমের ঘরে পাওয়া গেছে দুই বস্তা টাকা। মুহূর্তেই সেখানে ভিড় জমে স্থানীয়দের। কৌতূহলী মানুষ নিজের চোখে দেখতে ছুটে আসেন। জনসমক্ষে বসে শুরু হয় টাকা গোনা।

সালেয়া বেগম থাকেন সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিলের এক কোণের বারান্দায়। স্বামী বহু বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে শাপলা খাতুন সংসার সামলান আলাদা পরিবারে। রিকশাচালক স্বামী শহিদুল ইসলামের আয় দিয়েই চলে তাঁদের দিন। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সালেয়ার কাছে এত টাকা জমেছে এটা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

শাপলা খাতুন বললেন,‘মা একা থাকতে চাইতেন। আমরা জানতামই না, এত টাকা জমিয়েছেন তিনি। এখন মা অসুস্থ। এই টাকা দিয়ে চিকিৎসাই করানো হবে।’

স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ শুভ বলছিলেন,‘হঠাৎ দেখি রিকশায় করে বস্তা আনা হচ্ছে। পরে বুঝলাম, টাকায় ভর্তি। সালেয়া বেগম প্রায় ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করেন। আমরা জানতামই না, তাঁর কাছে এত টাকা আছে।’

আরেকজন স্থানীয় মো. রাশেদুল ইসলাম আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই সালেয়া অসুস্থ। তাঁর কাছে কিছু টাকা আছে জেনেছিলাম, কিন্তু এতটা আছে ভাবিনি। এক টাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা ও বিশ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে। অনেক নোট তো নষ্ট হয়ে গেছে।’

সাবেক কাউন্সিলর মো. শিপু জানান, সালেয়া বেগম এক জীবনে একটুও অপচয় করেননি। একসময়কার ভিক্ষার টাকাই জমে দাঁড়িয়েছে বস্তায় বস্তায়। এখন এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই টাকাই খরচ হবে তাঁর চিকিৎসায়।

ভিক্ষায় পাওয়া প্রতিটি টাকাই আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন সালেয়া বেগম। কারও কাছে বিশ্বাস রাখেননি, ভরসা করেননি। হয়তো মনে করেছিলেন, একদিন এই টাকাই তাঁর আশ্রয় হবে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সত্যিই তাই হলো দুই বস্তা টাকা এখন তাঁর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা।

ভিক্ষুক সালেয়া বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই বস্তা টাকা গণনা করে দেখা যায়, দুই বস্তায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। বাকি আরও অনেক নোট ও কয়েন রয়েছে, যা ব্যবহারযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাইওনিয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলের পেছনে স্থানীয়রা টাকা গণনা করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভিক্ষুকের ঘরে মিলল ২ বস্তা টাকা, হবে চিকিৎসা

আপডেট : ১১:৫২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

বয়স প্রায় ৬০ ছুঁইছুঁই। জীবনটা কেটেছে পথে পথে ভিক্ষা করে। কিন্তু সালেয়া বেগম কখনো নিজের জন্য কিছু রাখেননি। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নেননি, নতুন কাপড় কেনেননি। বরং ধীরে ধীরে জমিয়েছেন টাকার পর টাকা। চার দশকের বেশি সময় ধরে ভিক্ষা করে জমা সেই টাকা এখন দাঁড়িয়েছে দুই বস্তায়।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইওনিয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুল মাঠের পেছনে হঠাৎ হইচই। খবর ছড়িয়ে পড়েছে, ভিক্ষুক সালেয়া বেগমের ঘরে পাওয়া গেছে দুই বস্তা টাকা। মুহূর্তেই সেখানে ভিড় জমে স্থানীয়দের। কৌতূহলী মানুষ নিজের চোখে দেখতে ছুটে আসেন। জনসমক্ষে বসে শুরু হয় টাকা গোনা।

সালেয়া বেগম থাকেন সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিলের এক কোণের বারান্দায়। স্বামী বহু বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে শাপলা খাতুন সংসার সামলান আলাদা পরিবারে। রিকশাচালক স্বামী শহিদুল ইসলামের আয় দিয়েই চলে তাঁদের দিন। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সালেয়ার কাছে এত টাকা জমেছে এটা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

শাপলা খাতুন বললেন,‘মা একা থাকতে চাইতেন। আমরা জানতামই না, এত টাকা জমিয়েছেন তিনি। এখন মা অসুস্থ। এই টাকা দিয়ে চিকিৎসাই করানো হবে।’

স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ শুভ বলছিলেন,‘হঠাৎ দেখি রিকশায় করে বস্তা আনা হচ্ছে। পরে বুঝলাম, টাকায় ভর্তি। সালেয়া বেগম প্রায় ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করেন। আমরা জানতামই না, তাঁর কাছে এত টাকা আছে।’

আরেকজন স্থানীয় মো. রাশেদুল ইসলাম আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই সালেয়া অসুস্থ। তাঁর কাছে কিছু টাকা আছে জেনেছিলাম, কিন্তু এতটা আছে ভাবিনি। এক টাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা ও বিশ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে। অনেক নোট তো নষ্ট হয়ে গেছে।’

সাবেক কাউন্সিলর মো. শিপু জানান, সালেয়া বেগম এক জীবনে একটুও অপচয় করেননি। একসময়কার ভিক্ষার টাকাই জমে দাঁড়িয়েছে বস্তায় বস্তায়। এখন এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই টাকাই খরচ হবে তাঁর চিকিৎসায়।

ভিক্ষায় পাওয়া প্রতিটি টাকাই আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন সালেয়া বেগম। কারও কাছে বিশ্বাস রাখেননি, ভরসা করেননি। হয়তো মনে করেছিলেন, একদিন এই টাকাই তাঁর আশ্রয় হবে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সত্যিই তাই হলো দুই বস্তা টাকা এখন তাঁর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা।

ভিক্ষুক সালেয়া বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই বস্তা টাকা গণনা করে দেখা যায়, দুই বস্তায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। বাকি আরও অনেক নোট ও কয়েন রয়েছে, যা ব্যবহারযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাইওনিয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলের পেছনে স্থানীয়রা টাকা গণনা করেন।