০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্ম থেকেই পা নেই, তবু দমে যাননি মাহি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট : ১১:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৮৭৬ বার দেখা হয়েছে

জন্ম থেকেই দুই পা নেই মরিয়ম ইসলাম মাহির। তবু তিনি থেমে যাননি। দুই হাত ভর করেই হাঁটেন, স্কুলে গেছেন, পড়েছেন, আর এখন কলেজে যান নিয়মিত। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ক্ষুদ্র বয়রা গ্রামের এই মেয়েটির একমাত্র ভরসা তার বাবা দিনমজুর মোসাদ্দেক আলী।

মাহির মা মারা গেছেন এসএসসি পরীক্ষার আগেই। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও মেয়েটি হার মানেননি। নিজের অদম্য ইচ্ছে আর সাহসে সেই দুঃসময় পার করে এখন কলেজে পড়ছেন। স্বপ্ন দেখেন একদিন উচ্চশিক্ষা অর্জন করবেন, বড় কিছু হবেন।

দিনে দিনমজুরি করে যা আয় হয়, তাতে সংসারই চলে কষ্টে। তার ওপর মাহিকে হুইলচেয়ারে করে কলেজে নিয়ে যাওয়া-আসার কারণে বাবাকে নিয়মিত কাজে যেতে পারেন না। ফলে সংসারে নেমেছে আরও কঠিন বাস্তবতা।

মাহি বলেন, আমি পড়তে চাই। নিজের পায়ে না হাঁটতে পারলেও আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মাহির জীবনের এই গল্প প্রচারিত হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের পক্ষ থেকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হিমেল তালুকদার তাসরিফ, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেক রহমান, জাকারিয়া সরকার, মোতালেব সরকার, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল কাদের খান ও ফারুক।

ভিডিও কলে মাহি ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, মাহির মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা সবসময় আছি। তাদের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মাহির চোখে এখন নতুন স্বপ্নের আলো। হয়তো এই সহযোগিতা তাকে আবারও শক্তি জোগাবে নিজের মতো করে চলতে
দুই হাতে ভর করেই, কিন্তু বুকভরা সাহস নিয়ে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

জন্ম থেকেই পা নেই, তবু দমে যাননি মাহি

আপডেট : ১১:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

জন্ম থেকেই দুই পা নেই মরিয়ম ইসলাম মাহির। তবু তিনি থেমে যাননি। দুই হাত ভর করেই হাঁটেন, স্কুলে গেছেন, পড়েছেন, আর এখন কলেজে যান নিয়মিত। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ক্ষুদ্র বয়রা গ্রামের এই মেয়েটির একমাত্র ভরসা তার বাবা দিনমজুর মোসাদ্দেক আলী।

মাহির মা মারা গেছেন এসএসসি পরীক্ষার আগেই। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও মেয়েটি হার মানেননি। নিজের অদম্য ইচ্ছে আর সাহসে সেই দুঃসময় পার করে এখন কলেজে পড়ছেন। স্বপ্ন দেখেন একদিন উচ্চশিক্ষা অর্জন করবেন, বড় কিছু হবেন।

দিনে দিনমজুরি করে যা আয় হয়, তাতে সংসারই চলে কষ্টে। তার ওপর মাহিকে হুইলচেয়ারে করে কলেজে নিয়ে যাওয়া-আসার কারণে বাবাকে নিয়মিত কাজে যেতে পারেন না। ফলে সংসারে নেমেছে আরও কঠিন বাস্তবতা।

মাহি বলেন, আমি পড়তে চাই। নিজের পায়ে না হাঁটতে পারলেও আমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মাহির জীবনের এই গল্প প্রচারিত হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের পক্ষ থেকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হিমেল তালুকদার তাসরিফ, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেক রহমান, জাকারিয়া সরকার, মোতালেব সরকার, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল কাদের খান ও ফারুক।

ভিডিও কলে মাহি ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, মাহির মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা সবসময় আছি। তাদের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মাহির চোখে এখন নতুন স্বপ্নের আলো। হয়তো এই সহযোগিতা তাকে আবারও শক্তি জোগাবে নিজের মতো করে চলতে
দুই হাতে ভর করেই, কিন্তু বুকভরা সাহস নিয়ে।