ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের ‘অস্পষ্ট’ বিবৃতিতে ‘কষ্টের জায়গা’ আছে: ইরানি রাষ্ট্রদূত
- আপডেট : ০১:০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫২ বার দেখা হয়েছে
“এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আমাদের (ইরানের) যুদ্ধের ব্যাপারে যে সমস্ত বিবৃতি দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমাদের (ইরানের) কিছু কষ্টের জায়গা আছে” বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আজ বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, “(যুদ্ধের বিরুদ্ধে) স্পেনের মতো আরও অনেক ইউরোপীয় দেশ এবং আমেরিকার ভেতরেও জনগণের বিশাল বিশাল মিছিল দেখা যাচ্ছে। সেখানের বিভিন্ন কর্মকার্তারা এই যুদ্ধকে সরাসরি নিন্দাবাদ জানাচ্ছে এবং সমালোচনা করছে। সে হিসেবে আমরা আশা করি, বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্ট বিবৃতি না দিয়ে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করবে।”
“যে বিবৃতিগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে কেবল যুদ্ধের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ এটা স্পষ্ট যে আমেরিকা এখানে সরাসরি আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসন নিন্দার যোগ্য। সুতরাং, এখানে নিন্দা করাটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরব বা কোনো মুসলিম দেশের সাথে ইরান একেবারেই যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে এবং বাংলাদেশকে “ভাই” উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে মিশর, পাকিস্তান, তুরস্কসহ অনেক মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেছে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছে।
“পাকিস্তান আমাদের বন্ধু ও ভাই। সে হিসেবে পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক-মিশর কোনো উদ্যোগ করলে সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমেরিকারা ১৫টি শর্তসহ আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে একটা। আসলে এটা ছিল আমেরিকানদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারে নাই, এভাবে এখন তা তারা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমেরিকার সাথে আমাদের কোনো ধরনের আলোচনা হয় নাই। আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবের কোনো ধরনের উত্তর আমরা দেই নাই। তবে মুসলিম দেশগুলোকে আমরা বলেছি, ইরান কখনোই যুদ্ধের পক্ষে নয়, ইরান যুদ্ধ চায় না।”
“তবে ইরান এমনভাবে যুদ্ধকে শেষ করতে চায়, যাতে পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণের অধিকারও অর্জিত হয়,” এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তার মতে, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা ও ইসরায়েলের অস্ত্রের জোর থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আক্রমণ করে। যখন অস্ত্রের ঘাটতি আসে, তখন তারা শান্তির কথা বলে। এটা হতে পারে না যে তাদের বিপদের সময় তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে বলবে, আর আমাদের মেনে নিতে বলবে।”
এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ১১২ বারেরও বেশি সময় নিজেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি সকালে ঘোষণা করে যে আমরা বিজয়ী হয়েছি; আবার দুপুরে ঘোষণা করে যে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে আমরা জানি না যে কার সাথে উনি আলোচনা করছে; আবার রাত্রে বলে যে আমরা সব ধ্বংস করে দেবো। আমাদের বড় সমস্যা হলো, আমেরিকায় বর্তমানে এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছে, যে নিজেকেও বুঝেন না এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকেও বুঝতে পারেন না। অথচ তিনি নিজেকে, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের স্বার্থকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে গেছেন।”
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী ছয়টি জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। সে প্রসঙ্গে অগ্রগতি কদ্দুর, জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জাহাজগুলোর স্পেসিফিকেশন চেয়েছিলাম। নম্বর, কোন রুটে চলে- এসব। সেগুলো গত সপ্তাহে পেয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।”
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান টোল আরোপ করবে, এমন একটি সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, “টোলের বিষয়টা বিবেচনাধীন রয়েছে। টোল না হলেও ইরানের সাথে সমন্বয় করতে হবে।”










