১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও সময় চায় বিএনপি: স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা

অন্যদেশ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট : ১২:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১১ বার দেখা হয়েছে

​নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক অন্যদেশ

​আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দল ও প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আরও কিছুটা সময় চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল ও নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার ১০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত তুলে ধরেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতি সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভার নেতাদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সার্বিক চিত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে উপস্থাপন করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এখনো কেবল ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বাকি রয়েছে, যা দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়।

​দলীয় সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি, যাতে সাধারণ ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় একই পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন। এতে দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দল মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য বিরোধগুলো আগেভাগেই আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে একক প্রার্থীর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

​বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্ভাব্য তফসিল বা দিনক্ষণ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কয়েকজন সদস্য মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে এখনও সুস্পষ্ট দায়িত্ব বা নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। ফলে তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের তারিখ বা দিনক্ষণ ঘোষণার সুযোগ নেই।

​স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বিনা ভোটের চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও মেম্বাররা দায়িত্ব ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গভীর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে কাঠামোকে পুরোপুরি কার্যকর ও জনগণের আস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা যৌক্তিক সময় প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে এগোনোর পক্ষেই মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও সময় চায় বিএনপি: স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা

আপডেট : ১২:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক অন্যদেশ

​আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দল ও প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আরও কিছুটা সময় চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল ও নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার ১০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত তুলে ধরেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতি সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভার নেতাদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সার্বিক চিত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে উপস্থাপন করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এখনো কেবল ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বাকি রয়েছে, যা দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়।

​দলীয় সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি, যাতে সাধারণ ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় একই পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন। এতে দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দল মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য বিরোধগুলো আগেভাগেই আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে একক প্রার্থীর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

​বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্ভাব্য তফসিল বা দিনক্ষণ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কয়েকজন সদস্য মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে এখনও সুস্পষ্ট দায়িত্ব বা নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। ফলে তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের তারিখ বা দিনক্ষণ ঘোষণার সুযোগ নেই।

​স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বিনা ভোটের চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও মেম্বাররা দায়িত্ব ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গভীর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে কাঠামোকে পুরোপুরি কার্যকর ও জনগণের আস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা যৌক্তিক সময় প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে এগোনোর পক্ষেই মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।