যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
- আপডেট : ১২:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / ৩ বার দেখা হয়েছে
ইরানের ওপর “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালানোর খবর জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এছাড়া উপসাগরীয় দেশ ও জাহাজগুলোর দিকে ইরানের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনও ভূপাতিত করার খবর জানিয়েছে তারা।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে তাদের চালানো হামলা ছিল মূলত “মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া”।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে, তারা ওই অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সপ্তাহজুড়ে চলা দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যখন যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে, তখনই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা ঘটলো।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে, ইরান কুয়েতের দিকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে বা মাঝপথে ভেঙে পড়েছে।
এছাড়া বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
তারা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যে হামলাটি চালানো হয়েছে সেটি ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্য করে।
এছাড়া, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিকদের” লক্ষ্য করে ইরানের পাঠানো তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও মার্কিন সামরিক বাহিনী ভূপাতিত করেছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে যে, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।”
ইরান বারবার বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, ওয়াশিংটনের হরমুজ প্রণালি অবরোধের অংশ হিসেবে তারা ইরানের দিকে এগিয়ে আসা একটি খালি তেলের ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনে সেটিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।
এছাড়া, বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি এম/টি ভেসেলের ইঞ্জিন রুমে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, কারণ জাহাজটির ক্রু-দেরকে “বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা সেটি উপেক্ষা করেছিল”।
সেন্টকম একটি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে মঙ্গলবার ট্যাঙ্কারটিতে আঘাতের মুহূর্তটি দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ইরান এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ১৩ই এপ্রিল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী ও সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা শুরু করে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী “আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে খারগ দ্বীপের দিকে যাওয়ার সময় বতসোয়ানার পতাকাবাহী এম/টি লেক্সি নামে একটি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।”

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২৪ ঘণ্টা ধরে বারবার মার্কিন বাহিনী নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ওই জাহাজের নাবিকরা তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোট ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অকার্যকর করা হয়েছে এবং আরও ১২২টি জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বতসোয়ানার সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে প্রকাশ্যে হাজির হয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শীর্ষ এই কূটনীতিক জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন আলোচকরা ইরানকে কোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেননি।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তাদের সাথে যা আলোচনা হয়েছে তা হলো, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ।”
“অর্থাৎ, যে কারণে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছিল- যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত- তার বিনিময়েই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা সম্ভব,” জানান মি. রুবিও।
আইনপ্রণেতারা যখন চলমান সংঘাত শেষ করতে মার্কিন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় তিনি একজন সিনেটরকে বলেন যে, “যুদ্ধ শেষ হয়েছে।”










