০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ- হাঁসুয়ার কোপে কান বিচ্ছিন্ন, যুবক মৃত্যু সজ্জায় হাসপাতালে ভর্তি

সাইদ হাসান
  • আপডেট : ০৬:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৬৭ বার দেখা হয়েছে

​ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়ুলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হামলায় তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরকুড়ুলিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদীর সোনার চর লাল গোলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
​আহত রেজাউল সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়ুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত নাইম হোসেন (২৫) একই এলাকার নসিরের ঘাট এলাকার মৃত তালেব মাঝির ছেলে।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল সরদারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় নাইম হোসেন কিছুদিন আগে রেজাউলের মাছ ধরার জাল চুরি করেন।
​ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে এ বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেজাউল সরদার নাইমকে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাইম পেছন দিক থেকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রেজাউলের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। হামলায় তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রেজাউল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নাইম।
​পরে সঙ্গে থাকা বিশু মণ্ডল তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
​এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাইম হোসেন পলাতক রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আহত রেজাউলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ- হাঁসুয়ার কোপে কান বিচ্ছিন্ন, যুবক মৃত্যু সজ্জায় হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট : ০৬:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

​ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়ুলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রেজাউল সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হামলায় তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরকুড়ুলিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদীর সোনার চর লাল গোলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
​আহত রেজাউল সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়ুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত নাইম হোসেন (২৫) একই এলাকার নসিরের ঘাট এলাকার মৃত তালেব মাঝির ছেলে।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীতে চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রেজাউল সরদারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় নাইম হোসেন কিছুদিন আগে রেজাউলের মাছ ধরার জাল চুরি করেন।
​ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে এ বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেজাউল সরদার নাইমকে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাইম পেছন দিক থেকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে রেজাউলের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। হামলায় তার একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রেজাউল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নাইম।
​পরে সঙ্গে থাকা বিশু মণ্ডল তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
​এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাইম হোসেন পলাতক রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আহত রেজাউলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।