০৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরমিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনে অনিয়ম: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

অন্যদেশ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট : ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ২২১ বার দেখা হয়েছে

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) গঠন নীতিমালা ২০২৬ তোয়াক্কা না করে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ৪১ নং চরমিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে গঠিত এই কমিটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও খোদ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নীতিমালার তোয়াক্কা নেই, স্বজনপ্রীতিই প্রধান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামাল নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ‘শিক্ষক প্রতিনিধি’ হিসেবে নির্বাচন করার কথা থাকলেও, তিনি কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা ছাড়াই নিজস্ব পছন্দের একজনকে সেই পদে বসিয়েছেন। ​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষকরা জানান, “কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা আমাদের চরমভাবে অপমানিত করেছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

​বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, কমিটির ১২ সদস্যের অধিকাংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা নীতিমালা অনুযায়ী নেই এবং তাদের অনেকেই এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দায়ের করা গুম ও হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন বিতর্কিত কমিটি দিয়ে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন বা সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব।

​এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশে বসবাস করেও আমরা এমন প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি মানতে পারছি না। শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “কমিটি গঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সঠিক এবং নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।” তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে তাঁর দাবির সাথে প্রকৃত তথ্যের চরম গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কোনো বরাদ্দ এলেই প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সব খরচ করেন, যা আর্থিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।

​স্থানীয়দের দাবি করে বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কমিটি বিদ্যালয়ের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি ও কমিটি গঠনের অনিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চরমিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনে অনিয়ম: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আপডেট : ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) গঠন নীতিমালা ২০২৬ তোয়াক্কা না করে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ৪১ নং চরমিরকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে গঠিত এই কমিটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও খোদ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নীতিমালার তোয়াক্কা নেই, স্বজনপ্রীতিই প্রধান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামাল নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ‘শিক্ষক প্রতিনিধি’ হিসেবে নির্বাচন করার কথা থাকলেও, তিনি কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা ছাড়াই নিজস্ব পছন্দের একজনকে সেই পদে বসিয়েছেন। ​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষকরা জানান, “কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা আমাদের চরমভাবে অপমানিত করেছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

​বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, কমিটির ১২ সদস্যের অধিকাংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা নীতিমালা অনুযায়ী নেই এবং তাদের অনেকেই এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দায়ের করা গুম ও হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন বিতর্কিত কমিটি দিয়ে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন বা সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব।

​এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশে বসবাস করেও আমরা এমন প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি মানতে পারছি না। শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু মোস্তফা কামালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “কমিটি গঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সঠিক এবং নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।” তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে তাঁর দাবির সাথে প্রকৃত তথ্যের চরম গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কোনো বরাদ্দ এলেই প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে সব খরচ করেন, যা আর্থিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।

​স্থানীয়দের দাবি করে বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কমিটি বিদ্যালয়ের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি ও কমিটি গঠনের অনিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।